Youtube google+ twitter facebook Bangla Font Help

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান আছে, অভিযান নেই

৫:২৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০

বার্তা পরিবেশক, অনলাইন:: গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর র‌্যাবের এক অভিযানে গ্রেপ্তার হন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর একটি ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনাসহ নানা বিতর্কিত কর্মকা-ের অভিযোগ ওঠে। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী সংগঠনের এ নেতাকে গ্রেপ্তারে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। তখন বলা হয়, এটি সরকারের শুদ্ধি অভিযান, যা ক্ষমতাসীন দল নিজের ঘর থেকেই শুরু করল। এর পর একে একে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা গ্রেপ্তার হন। তবে কিছুদিন পরই চমক জাগানো এ অভিযানের গতি হ্রাস পেয়ে যায়। যদিও আরও অনেকের নামই তখন বিভিন্নভাবে শোনা যাচ্ছিল। তারা এখনো রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। ওই সময় যারা আত্মগোপনে গিয়েছিলেন তাদের অনেকেই ফিরে এসেছেন। অবশ্য র‌্যাব বলছে, তাদের অভিযান এখনো চলছে।

শুদ্ধি অভিযান বলা হলেও তা রূপ নেয় শুধুই ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে। ক্যাসিনো সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যুবলীগের সাবেক নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটও গ্রেপ্তার হন। ক্যাসিনো কারবারির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতার নাম আসার পর সমালোচনার মুখে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু এখনো মুখোশ উন্মোচন হয়নি অনেকেরই। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই বলছেন, শুদ্ধি অভিযান চলবে। অপরাধী যে দলেরই হোক তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এ অভিযানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে তথা দেশে কতটুকু প্রভাব পড়েছে এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা অভিযানের সফলতার দিক তুলে ধরছেন। আবার বিরোধীপক্ষ অভিযান দৃশ্যত বন্ধ হওয়ায় এ নিয়ে নেতিবাচক কথা বলছেন। তারা বলছেন, ক্যাসিনোকা-ে জড়িত অনেকেই এখনো আইনের আওতায় আসেনি। তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য আবদুর রহমান বলেন, ক্যাসিনোকা-ের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানের ফলে দেশে একটা আমুল পরিবর্তন এসেছে। এখন কেউ অপরাধ করতে গেলে এর পরিণতি নিয়ে অন্তত সাতবার ভাবে। এটাই অভিযানের সফলতা।

আওয়ামী লীগে প্রভাব কতটুকু পড়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মধ্যেও একটা গুণগত পরিবর্তন এসেছে। ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন নেতাদের দলে আনার বিষয়ে ভাবছে। সর্বোপরি বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে ত্যাগী নেতাদের জায়গা হচ্ছে দলে। এই অভিযান আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা শুরু করেছেন। অপরাধী নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই অভিযান চালিয়ে যাবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

অভিযানে আশাবাদী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দেশে এখনো দুর্নীতি, লুটপাট চলছে। এই করোনা ভাইরাস মহামারীর সময়ে যে অন্যায় ও দুর্নীতি দেখলাম তাতে এ রকম দুয়েকজনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে আশাবাদী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দুয়েকটা বিক্ষিপ্ত ও বিচ্ছিন্ন গ্রেপ্তারের ঘটনায় দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়। কারণ দেশে দুর্নীতি অনেক গভীরে চলে গেছে, যা অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই যে ফরিদপুরে কয়েকজন গ্রেপ্তার হলো, এতে কী হলো? এরাই কি শুধু অপরাধ করেছে? এই আড়ালের ব্যক্তিদের ধরা না গেলে এই অভিযানে ইতিবাচক ফল আসবে না।

শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর ক্যাসিনোকা-ে নাম আসায় একে একে গ্রেপ্তার হন গণপূর্ত বিভাগের প্রভাবশালী ঠিকাদার জিকে শামীম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, দক্ষিণ যুবলীগের সহসভাপতি এনামুল হক আরমান, মোহামেডান ক্লাবের পরিচালক লোকমান হোসেন ভুইয়া, কৃষক লীগ নেতা শফিকুল আলম ফিরোজ, সূত্রাপুরের আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক ও রূপন ভূঁইয়া। এদের ধরার পর বেরিয়ে আসে অপরাধের ফিরিস্তি ও তাদের সহযোগীদের নাম। অপরাধীর তালিকায় আসে সাবেক কাউন্সিলর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক সাঈদ, নির্বাহী সদস্য জাকির হোসেন, ঢাকা উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম রবিউল ইসলামসহ আরও অনেকের নাম। প্রতারণা ও নানা অপকর্মের দায়ে পরবর্তীকালে গ্রেপ্তার হন যুব মহিলা লীগের নেত্রী শামীম নূর পাপিয়া।

অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়াসহ নানা অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছরের ২০ অক্টোবর যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার ব্যাংক হিসাব তলব ও বিদেশ যাত্রায় আসে নিষেধাজ্ঞা। ২৩ অক্টোবর মোল্লা মো. আবু কাওছারকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এমনকি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ এমপিকে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা হয়।

রাজধানীর মতিঝিল ক্লাবপাড়া থেকেই ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সূচনা হয়। গত এক বছরে ক্যাসিনোকা-ে ৪৯টি অভিযান পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে ৩২টি র‌্যাব এবং ১৭টি অভিযান পুলিশ পরিচালনা করে। এসব অভিযানে ২৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে ঢাকায় ২২২ জন এবং ঢাকার বাইরে ৫৩ জন। যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও কৃষক লীগের প্রভাবশালী নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এই সময়ে ১১টি ক্যাসিনো ও ক্লাবে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। এসব অভিযানে ৮ কোটি ৪৫ লাখ নগদ টাকা, ১৬৬ কোটি টাকার এফডিআর, ১৩২টি বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই এবং ১১ কোটি ৭৭ লাখ টাকার চেক জব্দ করা হয়। এ ছাড়া আট কেজি স্বর্ণ, ২২টি অবৈধ আগ্নেয়ান্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় ৩২টি মামলা হয়। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ১৪টি মামলার তদন্ত করে র‌্যাব। ১৩টি মামলার চার্জশিট আদালতে দেওয়া হয়েছে। একটি মামলা তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। বাকি ১৮টি মামলা তদন্ত করে পুলিশ। তারা ৭টিতে চার্জশিট দাখিল করেছে।

এদিকে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি ও কৃষক লীগ নেতা শফিকুল আলম ফিরোজ ও মোহামেডান ক্লাবের পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া জামিনে বেরিয়ে গেছেন। গত ১৯ মার্চ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া কাশিমপুর-১ থেকে এবং ১ জানুয়ারি শফিকুল আলম ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার র‌্যাবের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, দেশে অনলাইনভিত্তিক জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান মূলত র‌্যাবই প্রথম করেছে। এতে গ্রেপ্তার মূল আসামি সেলিম প্রধান বর্তমানে কারাগারে আছেন। বর্তমান সময়ে ছোটখাটো অনলাইনভিত্তিক জুয়ার যেসব অভিযোগ আমরা পাচ্ছি, তা খুব বেশি সংগঠিত নয়। আমরা দেখছি বিভিন্ন বিদেশি ডোমেইন থেকে এগুলো পরিচালিত হচ্ছে। এ রকম বেশকিছু বিষয় আমাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে র‌্যাব কাজ করছে।

এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব মুখপাত্র বলেন, আমরা কোন ধরনের অভিযান করতে পারি আর কোনটা পারি না সেটা সুনির্দিষ্ট আছে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান একটি বিশেষ অভিযান ছিল। যা সরকার র‌্যাবকে দিয়ে পরিচালিত করে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর স্তিমিত বা ধীরগতি হয়েছে অনেকে এমনটি মনে করতে পারেন। কিন্তু আমাদের ক্যাসিনোবিরোধী বা ফৌজদারি অপরাধের বিরুদ্ধে অপারেশন অব্যাহত আছে। র‌্যাব অনলাইন ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান সম্প্রতি সময়েও পরিচালিত করেছে।

ক্যাসিনোর মূলহোতা এবং প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মূলহোতা বা প্রশ্রয়দাতাদের ব্যাপারে গণমাধ্যমে অনেক তথ্য এসেছে। পরিষ্কার করে বলতে চাই, ফৌজদারি অপরাধভিত্তিক যে অপরাধ ক্যাসিনো অভিযানে হয়েছে, র‌্যাব তা তদন্ত করে চার্জশিট দিয়েছে। বিচারিক কার্যক্রম শুরুর পর আদালতের নির্দেশক্রমে প্রশ্রয়দাতাদের বিষয়ে কোনো আদেশ থাকলে র‌্যাব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

[addthis tool="addthis_inline_share_toolbox_nev1"]

পাঠকের মন্তব্য

rss goolge-plus twitter facebook
Design & Developed By:

উপদেষ্টা মন্ডলির সভাপতি- ফারজানা ইয়াসমিন রিমি
উপদেষ্টা : মোঃ আসাদুজ্জামান । খন্দকার রাকিব
প্রকাশক ও সম্পাদক  : এম. জাহিদ 
উপ-সম্পাদক : শফিকুল ইসলাম রাতুল মৃধা
সহ- সম্পাদক : খন্দকার রাজিব
সহ- ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোঃ জসিম শরীফ

ই-মেইল: ,

  • বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়-

ভূইয়া ভবন, ৩য় তলা

ফকিরবাড়ী রোড, বরিশাল।

  • যোগাযোগ- ০১৭৯২০৫৯০৩২

ই-মেইল: mjahidbsl@gmail.com

টপ
  মাধ্যমিকে বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল   ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা হবে সশরীরে   প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ   ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এইচএসসির ফল   উন্নয়নের ধারাকে ধরে রাখতে শিক্ষার বিকল্প নেই   ১৭ অক্টোবর থেকে কিন্ডারগার্টেন খোলার দাবি   আগের ক্লাসের ফলের ভিত্তিতে মাধ্যমিকে পরবর্তী ক্লাস!   আসামিরা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন ঢাবির সেই ছাত্রী   করোনাঃ এসএসসি পরীক্ষা আয়োজন অনিশ্চিত   প্রাথমিকে শিক্ষক বদলি চলতি মাসেই    মৃত ব্যাক্তির নামে ব্যাংকে বেতন বিল দাখিল   আরও বাড়ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি!   এইচএসসি পরীক্ষা প্রস্তুতি নেবে শিক্ষা বোর্ড   জেলা পর্যায়ে ২৫ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দেয়ার প্রস্তাব   প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলতে প্রস্তুতি শুরুর নির্দেশ   একাদশ শ্রেনীর পাঠ্যবই নিয়ে শংকায় শিক্ষার্থীরা   বরিশালের ২২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট ভয়াবহ   ভর্তি কার্যক্রম শুরু একাদশে   বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে অনলাইনে ‘বঙ্গবন্ধু অলিম্পিয়াড   শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়লো ৩১ আগস্ট পর্যন্ত