Youtube google+ twitter facebook Bangla Font Help

ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে ‘বাণিজ্যের’ অভিযোগ

৭:০৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২০

অনলাইন ডেস্কঃ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের তৃণমূল পুনর্গঠন নিয়ে হযবরল অবস্থা চলছে। পদ দেয়ার বিনিময়ে ‘অনৈতিক লেনদেন ও পক্ষপাতিত্বের’ অভিযোগ উঠেছে কয়েকটি বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের বিরুদ্ধে। যে কারণে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও মামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীরা অনেক জায়গায় পদ পাচ্ছেন না। এ নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে।সদ্যঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে অনেক জায়গায় বিক্ষোভ করছেন তারা। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের বিরুদ্ধে বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে জমা পড়ছে অসংখ্য অভিযোগ। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লা বিভাগীয় টিম প্রধানকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।টিম থেকে বাদ দেয়া হয়েছে খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদককেও। এছাড়া জেলা শাখার দেয়া কমিটি পাল্টে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় টিমের বিরুদ্ধে। এসব বিভাগীয় টিমের বিরুদ্ধে জেলা শাখার নেতারা অনাস্থা জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

৪ জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যুগান্তরের কাছে অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা কমিটি গঠনে অনৈতিক লেনদেনসহ নানা অনিয়মের বিষয়ে মুখ খুলতে নিষেধ করেছেন। এ নিয়ে কথা বললে বহিষ্কারেরও হুমকি দেয়া হচ্ছে।এমনকি কোনো গণমাধ্যমে অনিয়মের খবর প্রকাশ হলেও তা মিথ্যা বলে কৌশলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বোঝাচ্ছেন। তাকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছেন।

ছাত্রদলকে আরও শক্তিশালী করতে তৃণমূল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয় বিএনপি হাইকমান্ড। সে অনুযায়ী সারা দেশের থানা-পৌর, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শাখাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ১০টি সাংগঠনিক বিভাগে ১১টি টিম গঠন করা হয়।জানতে চাইলে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন  বলেন, কোনো বিভাগীয় টিমের বিরুদ্ধে লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে কারও কারও বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি, তা আমলে নেয়ার মতো না।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যদি কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষণার অনুরোধ করেন, তাহলেই কেবল তা ঘোষণা করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগীয় টিমের প্রধান হচ্ছেন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কেএসএম মুসাব্বির সাফি। তার সঙ্গে রয়েছেন সহসভাপতি পাবেল শিকদার, যুগ্ম সম্পাদক এবিএম মাহমুদ আলম সরদার, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাইন উদ্দিন নিলয়, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ সাব্বির। এ টিমের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ।তাদের বিরুদ্ধে বান্দরবান জেলার সভাপতি আশরাফুল আমিন ফরহাদ ও অমিত ভূষণ তঞ্চঙ্গ্যা কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। সেখানে তারা বলেন, ‘গত ২৩ জুলাই যৌথ স্বাক্ষরে ১৩টি ইউনিট কমিটি জমা দেই। আমাদের দেয়া কমিটিগুলো স্থানীয়ভাবে আলাপ-আলোচনা ও ছাত্র সমাবেশ করে মতবিনিময়ের মধ্যেমে গঠন করি। কিন্তু বিভাগীয় টিম আমাদের স্বাক্ষরিত কমিটি পুরোপুরি বদলিয়ে নিজেদের মনগড়া কমিটি তৈরি করে, আমাদের স্বাক্ষর করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।ওই কমিটিতে স্বাক্ষর করার অর্থ জেলার ত্যাগী, মামলা-হামলা-নির্যাতিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। একই অভিযোগ রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রদলেরও। এছাড়া হাটহাজারী উপজেলা, পৌরসভা, কলেজ শাখাসহ ২০টি ইউনিটের কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেখানেও নিয়ম মানা হয়নি।চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর ছাড়াই কেন্দ্রীয় প্যাডে সহ-দফতর সম্পাদক স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি দেয়া হয়। এ কমিটি বাতিলের দাবিতে হাটহাজারীতে প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ মিছিল করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

সূত্র জানায়, এ ২০ ইউনিটের মধ্যে ৬টি ইউনিট কমিটিতে ত্যাগী ও যোগ্য নেতা না রাখায় স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি।অভিযোগ রয়েছে, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম জনি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল টিমের যোগসাজশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক সদস্য নিজের অনুসারী দিয়ে কমিটি গঠন করিয়েছেন।

বিএনপির ওই কেন্দ্রীয় নেতা চট্টগ্রাম বিভাগীয় অধিকাংশ ইউনিট কমিটিতে হস্তক্ষেপ করছেন, যা নিয়ে বিব্রত চট্টগ্রামের বিএনপি সিনিয়র নেতারা। অবশ্য জনি যুগান্তরকে বলেন, আমার সভাপতি নিজের লোক বসানোর চেষ্টায় ছিল। অনেক জায়গায় নিজের লোক না দিতে পেরে কমিটিতেস্বাক্ষর করেননি। আর কমিটি গঠনে অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ মিথ্যা। জানতে চাইলে উত্তর জেলার সভাপতি জাহিদুল আফসার জুয়েল বিষয়টি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয় জানিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের সাবেক এমপি প্রয়াত সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বলেন, গ্রুপ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সবাই তো দল করে। হাটহাজারীতে কমিটি করার ক্ষেত্রে সুপার ফাইভে সব গ্রুপ থেকে নিতে পারত। কিন্তু ব্যারিস্টার মীর হেলাল তার মতো করে কমিটি করিয়েছেন।

জানতে চাইলে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে, এলাকায় তাদের কোনো অবস্থানই নেই।হাটহাজারীতে সবার মতামত নিয়ে ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের দিয়ে একটা ব্যালেন্স কমিটি করেছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

চট্টগ্রাম-২ আসনে গত নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া মো. আজিম উল্লাহ বাহার যুগান্তরকে বলেন, ফটিকছড়ির কমিটি নিয়ে জেলা শাখা আমার সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। এ ব্যাপারে বিভাগীয় টিমের সঙ্গে কথাও বলেছি। আমার নির্বাচনী এলাকায় কমিটি হবে আর আমি জানব না, তা তো হতে পারে না। এলাকার দলীয় সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে যদি কমিটি দেয়া না হয়, তাহলে দ্বন্দ্ব আরও বাড়বে। কমিটি গঠনে অনৈতিক লেনদেনের কথাও শুনেছি।নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফটিকছড়ির এক নেতা জানান, উপজেলা কমিটিতে গার্মেন্টে চাকরিরত একজনকে শীর্ষ পদে বসাতে মরিয়া কেন্দ্রীয় বিভাগীয় টিম। এ ছাড়াও স্থানীয় সব নেতাকে পাশ কাটিয়ে বিএনপির নির্বাহী কমিটির ওই নেতার পছন্দের লোকজনকে দিয়ে কমিটি দেয়ার চেষ্টা চলছে।

ত্যাগী ও যোগ্যদের বাদ দিয়ে কমিটি হলে তা মেনে নেয়া হবে না। এসব ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়াও সম্প্রতি কক্সবাজার জেলার আওতাধীন ১৮টি শাখা কমিটি ঘোষণার পর অনৈতিক লেনদেন ও ত্যাগীদের বাদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। কমিটি বাতিলের দাবিতে কক্সবাজার শহরে বিক্ষোভ মিছিলও করেছেন পদবঞ্চিতরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় টিম প্রধান কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কেএসএম মুসাব্বির সাফি  বলেন, এসব সত্য নয়। আমি শতভাগ সততা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি। জেলা নেতাদের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে কেউ কেউ অপপ্রচার চালাচ্ছে।এদিকে খুলনা বিভাগীয় ছাত্রদলের টিমপ্রধানের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছেন জেলার অধিকাংশ নেতা। ২৫ জুন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তারা।

লিখিত অভিযোগে তারা বলেন, ‘বিভাগীয় টিম তাদের ওপর অর্পিত দ্বায়িত্ব পালন না করে কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতির এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত। তারা অসৎ ও অনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজ করছে। প্রতিটি জেলায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাইরে আলাদা বলয় তৈরি ও সংশ্লিষ্টদের আগামী দিনে বড় পদের আশ্বাস দিয়ে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।’

খুলনার বিভাগের অন্তত ৫টি জেলার শীর্ষ নেতারা  বলেন, টিম প্রধান কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মিজানুর রহমান সজীবের বিরুদ্ধে আমরা ২ পৃষ্ঠার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিয়ে অপসারণের দাবি করেছিলাম। কিন্তু ৬ অক্টোবর ৫টি বিভাগীয় সাংগঠনিক টিম পুনর্গঠন করা হলেও তাকে বহাল রাখা হয়েছে। আমরা তার বিরুদ্ধে অনাস্থার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এ ছাড়াও ফেনীর ফুলগাজী ও দাগনভূঞা, সিলেট, ঝিনাইদহ, মুন্সীগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি জেলার বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কমিটি বাতিলের দাবিতে এসব এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

[addthis tool="addthis_inline_share_toolbox_nev1"]

পাঠকের মন্তব্য

rss goolge-plus twitter facebook
Design & Developed By:

উপদেষ্টা মন্ডলির সভাপতি- ফারজানা ইয়াসমিন রিমি
উপদেষ্টা : মোঃ আসাদুজ্জামান । খন্দকার রাকিব
প্রকাশক ও সম্পাদক  : এম. জাহিদ 
উপ-সম্পাদক : শফিকুল ইসলাম রাতুল মৃধা
সহ- সম্পাদক : খন্দকার রাজিব
সহ- ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোঃ জসিম শরীফ

ই-মেইল: ,

  • বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়-

ভূইয়া ভবন, ৩য় তলা

ফকিরবাড়ী রোড, বরিশাল।

  • যোগাযোগ- ০১৭৯২০৫৯০৩২

ই-মেইল: mjahidbsl@gmail.com

টপ
  মাধ্যমিকে বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল   ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা হবে সশরীরে   প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ   ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এইচএসসির ফল   উন্নয়নের ধারাকে ধরে রাখতে শিক্ষার বিকল্প নেই   ১৭ অক্টোবর থেকে কিন্ডারগার্টেন খোলার দাবি   আগের ক্লাসের ফলের ভিত্তিতে মাধ্যমিকে পরবর্তী ক্লাস!   আসামিরা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন ঢাবির সেই ছাত্রী   করোনাঃ এসএসসি পরীক্ষা আয়োজন অনিশ্চিত   প্রাথমিকে শিক্ষক বদলি চলতি মাসেই    মৃত ব্যাক্তির নামে ব্যাংকে বেতন বিল দাখিল   আরও বাড়ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি!   এইচএসসি পরীক্ষা প্রস্তুতি নেবে শিক্ষা বোর্ড   জেলা পর্যায়ে ২৫ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দেয়ার প্রস্তাব   প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলতে প্রস্তুতি শুরুর নির্দেশ   একাদশ শ্রেনীর পাঠ্যবই নিয়ে শংকায় শিক্ষার্থীরা   বরিশালের ২২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট ভয়াবহ   ভর্তি কার্যক্রম শুরু একাদশে   বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে অনলাইনে ‘বঙ্গবন্ধু অলিম্পিয়াড   শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়লো ৩১ আগস্ট পর্যন্ত