এম.জাহিদ , বরিশাল::: বরিশাল নগরীর আলোচিত আবাসিক প্রতিষ্ঠান হোটেল পপুলার-এ নারীসহ প্রবেশের পর আর্থিক লেনদেন ও মোবাইল ফোন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জাহিদ (২০) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। আটক যুবক নিজেকে বরিশাল ক্রাইম পত্রিকার সম্পাদক শাহ আলম শাহ’র ছেলে বলে পরিচয় দেন।
হোটেল সূত্রে জানা গেছে, রাতভর নারী নিয়ে অবস্থানের পর সকালে বিল ও মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন ভোটার/ গেস্ট জাহিদ। একপর্যায়ে হোটেল স্টাফ শাহিনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ ঘটনার এক পর্যায়ে হোটেল স্টাফ শাহিন ফোন নিয়ে বাহিরে চলে যায় হোটেলের বিল পরিশোধ করে পরিশোধ করে মোবাইল নিতে বলে। পরক্ষনে জাহিদের পিতা শাহ আলম শাহ খবর পেয়ে সুকৌশলে সু চতুর এই টাউট সম্পাদক নলছিটি থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করেন এবং সেটির কপি নিয়ে হাজির হয় বরিশাল মডেল কোতোয়ালি থানায়। থানার ওসি এবং
নানীবুড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নাসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে এএসআই বোরহান উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে যান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জাহিদকে আটক করে ফাঁড়িতে নেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়। পরে বিষয়টি বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
রাত প্রায় ১২টার দিকে বরিশাল ক্রাইম পত্রিকার সম্পাদক পরিচয়ে শাহ আলম শাহ ফাঁড়িতে উপস্থিত হয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এ সময় বিভিন্ন পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি ফাঁড়ি প্রাঙ্গণে ভিড় করেন এবং তদবিরের চেষ্টা চালান যা সরজমিনে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী এই সংবাদকর্মী। পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্টদের থানায় পাঠানো হয়।
ঘটনায় নতুন মোড় আসে, যখন জানা যায়,আটকের দিনই (২৪/০২/২০২৬) ঝালকাঠির নলছিটি থানায় জাহিদকে (জিডিতে উল্লেখিত নাম: মোঃ জিহাদুল ইসলাম, বয়স ২০) নিখোঁজ দেখিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং: ৯১৮, জিডি করা হয়েছে। জিডিতে আবেদনকারী হিসেবে এইচ এম শাহআলম শাহ উল্লেখ করেন, তার ছেলে ২৩/০২/২০২৬ তারিখ দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি, ব্যবহৃত একাধিক মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তির বর্ণনায় গায়ের রং শ্যামলা, উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, পরনে পাঞ্জাবি ও বরিশাল ক্রাইম পত্রিকার কার্ড ও প্রেস লেখা একটি কটি ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
সচেতন মহলের দাবি, যে সময়ে জিডিতে নিখোঁজ দেখানো হয়, সে সময়ই জাহিদ বরিশালে অবস্থান করছিলেন এবং পরে হোটেল পপুলার থেকে আটক হন, যা ঘটনার সঙ্গে জিডির তথ্যের সাংঘর্ষিক দিককে সামনে আনছে।
সাংবাদিক মহলে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতেও রয়েছে পিতা এইচ এম শাহ আলম এর নাম।
স্থানীয় সাংবাদিক মহলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যক্তি পত্রিকার পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন শাহ আলম শাহ, নাম মাত্র পত্রিকা মাঝেমধ্যে ছাপা হলেও তথাকথিত,ভুঁইফোড় অপেশাদারদের অর্থের বিনিমনে অর্ধ হাজার আইডি কার্ড বিক্রি করেছে এই শাহ আলম ।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল-মামুন-উল-ইসলাম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। জিডির তথ্য ও আটকের ঘটনার মধ্যে কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে বরিশাল ও ঝালকাঠি জেলায় ইতিমধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।



