এম. জাহিদ।। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ বি এম সোলায়মান মাসুমের বিরুদ্ধে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। এবার প্রশ্ন উঠেছে তার বাবার মাসিক আয় এবং দুই ছেলের রাজকীয় পড়াশোনার ব্যয়ভার নিয়ে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডা. সোলায়মানের পিতা এনবিআর-এর (NBR) একজন অফিস সুপার ছিলেন, যার বেতন সন্তানদের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর খরচের তুলনায় ছিল একেবারেই নগণ্য। এদিকে তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. সুরেন্দ্রনাথ সাহার কার্যক্রমে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ডা. সোলায়মান মাসুমের পিতা সালাউদ্দিন বেপারী এনবিআর-এর একজন অফিস সুপার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন তার মাসিক বেতন ছিল সর্বসাকুল্যে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। অথচ তিনি বড় ছেলে সোলায়মান মাসুমকে ঢাকার আফতাবনগরের ‘ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি’র মতো ব্যয়বহুল প্রতিষ্ঠানে ৪ বছরের স্নাতক শেষ করিয়েছেন, যার আনুমানিক খরচ ছিল ১৫ লক্ষ টাকার উপরে। একইভাবে ছোট ছেলেকেও পড়িয়েছেন নামী প্রাইভেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একজন অফিস সুপারের বেতন দিয়ে কি সন্তানদের এই আকাশচুম্বী খরচ মিটিয়ে ঢাকা,বরিশাল, ফরিদপুর ও মেহেন্দিগঞ্জে অঢেল সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব? নাকি সরকারি চাকরির আড়ালে এনবিআরে থাকাকালীনই গড়ে তুলেছিলেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়?
অভিযোগ উঠেছে, মেহেন্দিগঞ্জে আসা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ডা. সোলায়মানকে রক্ষার চেষ্টা করছে। নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগকারীদের সাথে গোপনে কথা বলার কথা থাকলেও তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. সুরেন্দ্রনাথ সাহা অভিযুক্ত কর্মকর্তার সামনেই খোলামেলা তদন্ত করেছেন। উপস্থিত কর্মচারীরা জানিয়েছেন, “বাঘের সামনে কি ছাগলে মুখ খুলতে পারে?ডা. সোলায়মানের দাপটে এবং ভীতি প্রদর্শনের কারণে অনেক কর্মচারী প্রকৃত সত্য বলতে পারেননি। অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত কমিটি ওই কর্মকর্তার অবৈধ অর্থের মোহে সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
নিজেদের বাঁচানোর শেষ অস্ত্র হিসেবে ডা. সোলায়মান মাসুম অফিসের সকল কর্মচারীর কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়েছেন বলে জানা গেছে। যারা ছুটিতে ছিলেন, তাদের বাড়িতে পিয়ন পাঠিয়ে স্বাক্ষর আদায় করা হয়েছে। অনেক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা সই করতে চাইনি, কিন্তু চাকরি বাঁচাতে ও বদলির ভয়ে বাধ্য হয়েছি।এছাড়া সাংবাদিকদের ‘জারজ সন্তান’ এবং নারী কর্মীদের,সেকেন্ড হ্যান্ড মাল’ বলার সপক্ষে যে অডিও রেকর্ড রয়েছে, সেটিকে ‘ভুল ব্যাখ্যা’ বলে দাবি করে দায়মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।অনুসন্ধানে
কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে আসছে ডা. সোলায়মান ও তার পরিবারের অঢেল সম্পদের তালিকা। ফরিদপুরের ওয়ারলেস পাড়ার আলিশান ভবন, ঢাকার উত্তরার ফ্ল্যাট ছাড়াও বরিশালের কাশীপুরে জমি এবং মেহেন্দিগঞ্জের বদুরপুরে বহুতল বিলাসবহুল ভবন তারই অবৈধ আয়ের স্বাক্ষর বহন করছে। মেহেন্দিগঞ্জের সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিক সমাজ প্রশ্ন তুলেছেন, একজন উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তার খুঁটির জোর কতটা হলে ৮ বছর ধরে একই এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব চালাতে পারেন!
দপ্তরে প্রায়ই ডা. সোলায়মানকে বলতে শোনা যায়, আমিই তো ডিডি (DD), আমার হাত অনেক লম্বা। সাবেক রাজনৈতিক প্রভুদের নাম ভাঙিয়ে তিনি প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলেছেন। তবে সচেতন মহলের দাবি, এই কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ জরুরি।
মেহেন্দিগঞ্জের ও বরিশালের সাংবাদিক সমাজ ও ভুক্তভোগী নারী কর্মীরা অবিলম্বে ডা. সোলায়মান মাসুমের অপসারণ এবং একটি নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের জুডিশিয়াল তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন চলমান…
লিড নিউজ গণমাধ্যম, জাতীয়, বরিশাল, বরিশাল বিভাগ, শিরোনাম, সারাদেশ, স্বাস্থ্য, হোম


