এম. জাহিদ।। দক্ষিণাঞ্চলের চিকিৎসাসেবা অঙ্গনে এক অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য, জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধেয় নাম প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ তহুরা আক্তার। চিকিৎসা ক্ষেত্রে তাঁর গভীর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার কারণে সেবাগ্রহীতারা তাঁকে ভালোবেসে ‘গাইনী মাস্টার’ বলেও অভিহিত করে থাকেন। তবে শুধু চিকিৎসাগত অভিজ্ঞতাই নয়; রোগীদের প্রতি তাঁর সদা হাস্যোজ্জ্বল অভ্যর্থনা, পরম মমতাময়ী ও কোমল আচরণ তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে একজন আদর্শ মানবিক চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সম্প্রতি এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের অবসান ঘটেছে। ভুল বোঝাবুঝির সত্যতা অনুধাবন করতে পেরে ভুক্তভোগী পরিবারটি পুলিশের কাছে দায়ের করা তাঁদের অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবেগপ্রবণ ও ভুল বোঝাবুঝির বশবর্তী হয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন নগরীর জাগুয়া এলাকার আফিয়া রহমান নিয়ন। অভিযোগে অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ডাঃ সোহেল মিয়া ও গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাঃ তহুরা আক্তারের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। ঘটনাটির পর পরই একটি বিশেষ মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টিকে ভিন্নখাতে মোড় দেওয়ার চেষ্টা করে এবং ডাঃ তহুরার সম্মান ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচারে মেতে ওঠে।
তবে পরবর্তীতে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা ও সার্বিক পরিস্থিতি অনুধাবন করে অভিযোগকারী পরিবার বুঝতে পারেন।রোগীর চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় চিকিৎসকদের কোনো প্রকার অবহেলা বা বিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্য ছিল না,যা ঘটেছে তা একটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মাত্র।
পরবর্তীতে ২৮ সেপ্টেম্বর আফিয়া রহমান নিয়ন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত আবেদনের মাধ্যমে অভিযোগটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।
কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের করা প্রত্যাহারপত্রে অভিযোগকারী আফিয়া রহমান নিয়ন উল্লেখ করেন,গত ২৫ সেপ্টেম্বর, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝির বশবর্তী হয়ে অ্যানেসথেসিওলজিস্ট সোহেল মিয়া ও ডাঃ তহুরা আক্তারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। পরবর্তীতে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমি নিশ্চিত হয়েছি যে, উক্ত ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল এবং এতে কারো কোনো বিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্য ছিল না। বর্তমানে বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে সুরাহা হওয়ায় আমি উক্ত অভিযোগটি আর বজায় রাখতে ইচ্ছুক নই এবং স্বজ্ঞানে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।
ভুক্তভোগী পরিবারটি নিজ উদ্যোগে সত্য উন্মোচন করে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ডাঃ তহুরা আক্তারের বিরুদ্ধে অসাধু চক্রের চালানো অপপ্রচারের যবনিকাপাত ঘটল। চিকিৎসকের অকৃত্রিম সেবামূলক মানসিকতা ও পেশাদারিত্বের বিষয়টিকে পরিবারটি সম্মান জানানোয় স্থানীয় সুশীল সমাজ ও চিকিৎসকমহল স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় একাধিক রোগী ও তাঁদের স্বজনরা জানান, “ডাঃ তহুরা ম্যাডাম এমন একজন চিকিৎসক, যাঁর কাছে গেলে অর্ধেক অসুখ এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। তাঁর বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার সত্যিই দুঃখজনক ছিল। দেরিতে হলেও ভুক্তভোগী পরিবারটি সত্য উপলব্ধি করে অভিযোগ প্রত্যাহার করায় সত্যের জয় হয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদনের মাধ্যমে বহুল আলোচিত এই বিতর্কের অবসান ঘটল এবং ডাঃ তহুরা আক্তারের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ থেকে তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ হিসেবে প্রমাণিত হলেন।
লিড নিউজ হোম


