নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল ||
বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) হকার পুনর্বাসন কর্মসূচিকে ঘিরে ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা ত্যাগী নেতাকর্মী ও প্রকৃত হকারদের বঞ্চিত করে অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ‘হকার্স লীগ’ সদস্যদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সাধারণ হকারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, বরিশাল সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হকার পুনর্বাসনের তালিকা তৈরির দায়িত্ব দেন ওয়ার্ড বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতার ওপর। কিন্তু দায়িত্ব পাওয়ার পর ওই সিনিয়র নেতৃবৃন্দ দলের দুঃসময়ে পাশে থাকা ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষক দলের মতো অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাদের সাথে কোনো প্রকার আলোচনা করেননি। অভিযোগ উঠেছে, নিজেদের পকেট ভারী করা এবং ব্যক্তিগত সুবিধার বিনিময়ে তারা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর ‘হকার্স লীগ’ নেতাকর্মীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
স্থানীয় ভুক্তভোগী হকার ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তৎকালীন বিসিসি মেয়র অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ারের নেতৃত্বে হকার উচ্ছেদ ও পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে ‘বহুমুখী সিটি মার্কেট’ গড়ে তোলা হয়েছিল। বর্তমানের বিতর্কিত ওই সিনিয়র নেতাদের হাত ধরেই তখন এই হকার্স লীগের ব্যক্তিরা স্টল বরাদ্দ পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিএনপি ক্ষমতাচ্যুত হলে তারা চড়া দামে সেই স্টলগুলো বিক্রি করে দিয়ে সটকে পড়েন।
আওয়ামী লীগ আমলে এরা সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদেক আবদুল্লাহ, বর্তমান মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অসীম দেওয়ানের ছত্রছায়ায় চলে যান। তাদের নেতৃত্বে সিটি করপোরেশনের সামনের রাস্তা অবৈধভাবে দখল করে পুনরায় বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি শুরু করেন তারা। অথচ, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর সেই চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও হকার্স লীগের নেতারাই আবার পুনর্বাসনের তালিকায় অগ্রাধিকার পাচ্ছেন।
পুনর্বাসন কার্যক্রমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও যোগ্য হকারদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক ও আর্থিক বিবেচনায় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের পুনর্বাসনের এই প্রক্রিয়ায় ফুঁসে উঠেছে শ্রমিক সংগঠনগুলো।
বরিশাল মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতি ফয়েজ আহমেদ খান বলেন,
“যারা প্রকৃতভাবে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, তারা কখনো আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করবেন এটা আমি বিশ্বাস করি না। বিগত দিনে যেসব শ্রমিক দলের জন্য মার খেয়েছেন, আন্দোলন করেছেন, তাদের পুনর্বাসন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
বরিশাল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি শহিদ মোল্লা আক্ষেপ করে বলেন,
আমাদের পদ অনেক ছোট, তাই চাইলেও অনেক কিছু করতে পারি না। সিনিয়র নেতৃবৃন্দ যদি দলের নাম বিক্রি করে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের দায়িত্ব নেন, তবে আমাদের কী-ই বা করার আছে! ৫ আগস্টের পর কিছু নেতা যেন আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার ঠিকাদারি নিয়েছেন।
তবে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। তাদের দাবি, পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় বা আর্থিক লেনদেন বিবেচনা করা হয়নি।
এদিকে হকার পুনর্বাসনের নামে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের এই চক্রান্ত রুখে দিতে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন ও বিএনপির হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। অবিলম্বে এই বিতর্কিত তালিকা বাতিল করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ও ক্ষতিগ্রস্ত হকারদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
লিড নিউজ বরিশাল



