(অনুসন্ধান চলমান .. চোখ রাখুন আগামী পর্বে…
এম.জাহিদ / আসাদুজ্জামান।।
বরিশাল নগরীর যে এলাকায় এক শতাংশ জমির দাম আকাশচুম্বী, সেখানে একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারীর আলিশান একাধিক বাড়ির মালিকানা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। রূপকথাকেও হার মানানো এই অবিশ্বাস্য উত্থানের নায়ক বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় কর্মরত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রিয়াজ।
এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের প্রশ্ন,একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারীর সারাজীবনের বৈধ উপার্জন দিয়ে যেখানে এই সম্পদের ১০ ভাগের এক ভাগও গড়া সম্ভব নয়, সেখানে এএসআই রিয়াজের হাতে কোন জাদুমন্ত্রে এই বিপুল সম্পদ এলো? তার আয়ের উৎসব কী? নাকি উর্দির আড়ালে দুর্নীতির এক ভয়ংকর সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন তিনি?
সরোজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পুলিশের এই ছোট পদের কর্মকর্তার বরিশাল শহরের প্রাণকেন্দ্রেই রয়েছে তিনটি আলিশান বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ জমি। তিনটি স্পটে তার মোট জমির পরিমাণ ১৮.৫ শতাংশ, যার বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য অন্তত ৩ কোটি টাকা। একজন এএসআই পদের বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে এত অল্প সময়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
রিয়াজের জানা-অজানা সম্পদের খতিয়ান তুলে ধরা হলো,
১. রুপাতলী আদর্শ সড়ক: এখানে ৬ শতাংশ দামী জমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে তার একটি সুদৃশ্য আলিশান একতলা ভবন।
২৪ নং ওয়ার্ডে ২.জিয়ানগর এলাকা এখানে রয়েছে ৫.৫ শতাংশ নিষ্কণ্টক খালি জমি, যার দামও কোটির কোঠায়।
৩. জিয়ানগর বাজার: বাজার এলাকায় মার্কেটসহ ৭ শতাংশ জমির ওপর রয়েছে একটি বড় টিনশেড বাড়ি ও আয়ের উৎস।
এই বিপুল সম্পদের বিষয়ে জানতে এএসআই রিয়াজের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। তিনি প্রথমে রুপাতলী আদর্শ সড়কের ৬ শতাংশ জমি ও একতলা বিল্ডিংটি ৬২ লাখ টাকায় বিক্রি করবেন বলে জানান। কিন্তু, প্রশ্নকর্তা যখনই নিজের পরিচয় ‘মিডিয়া কর্মী’ হিসেবে দেন, তখনই তার কন্ঠস্বর পাল্টে যায়। পরিচয় পাওয়ার সাথে সাথেই কোনো উত্তর না দিয়ে তিনি লাইন কেটে দেন এবং এরপর একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
তার এই আচরণই প্রমাণ করে, এই সম্পদের পেছনের গল্প মোটেও শুভ্র নয়। মিডিয়াকে এড়িয়ে যাওয়া তার অপরাধবোধ বা তথ্য গোপনের স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জনরোষ ও দুদকের প্রতি দাবি
সাধারণত কোনো বড় শিল্পপতি বা সফল ব্যবসায়ী ছাড়া শহরের বুকে এমন অঢেল সম্পত্তির মালিক হওয়া কল্পনাও করা যায় না। একজন অতি সাধারণ ও ছোট পদের কর্মচারী হয়েও কীভাবে তিনি এই কোটি কোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়ে তুললেন, তা এখন বরিশালের সবচেয়ে বড় আলোচনা-সমালোচনার বিষয়।
এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, দুর্নীতির এই নীরব উৎসব আর চলতে দেওয়া যায় না। একজন সরকারি কর্মচারীর হাতে এত অবৈধ সম্পদ থাকা সুশাসনের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
জবাবদিহিতা ও সুশাসনের স্বার্থেই এই বিপুল আয়ের আসল উৎস খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি। বরিশালের সচেতন মহল এই ‘আলাদিনের চেরাগ’ এর রহস্য উন্মোচনে এবং অবৈধ সম্পদের পাহাড় ধসিয়ে দিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের দ্রুত ও কঠোর তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।
লিড নিউজ অনলাইন ডেস্ক, জাতীয়, বরিশাল, বরিশাল বিভাগ, হোম



