নিজস্ব প্রতিবেদক।। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কোতোয়ালী মডেল থানার সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) ফেরদৌসের বেপরোয়া আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং একজন পেশাদার সংবাদকর্মীকে প্রকাশ্যে অশালীন ভাষায় লাঞ্ছনা করার অভিযোগ উঠেছে। সম্পূর্ণ নির্দোষ ও অসাবধানতাবশত ঘটে যাওয়া একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জ্যেষ্ঠ এক সাংবাদিকের ওপর চড়াও হয়ে উগ্র আচরণের প্রতিবাদে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
গত বুধবার (১৯ আগস্ট) বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের দপ্তরে লিখিতভাবে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়। একই সাথে দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে অভিযোগপত্র, সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ ও ভিডিও প্রমাণ সরাসরি রেঞ্জ ডিআইজি এবং বিএমপি পুলিশ কমিশনারের দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ দায়েরকারী ভুক্তভোগী সাংবাদিক এম. জাহিদ দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বস্তুনিষ্ঠতার সাথে পেশাগত সাংবাদিকতা করে আসছেন। তিনি বর্তমানে জাতীয় দৈনিক ‘যায়যায়দিন-এর বরিশাল ব্যুরো অফিসে রিপোর্টার এবং স্থানীয় দৈনিক ‘আজকের সুন্দরবন’ পত্রিকার প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগপত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট সকালে রাহাত আনোয়ার হাসপাতালের সামনে অবস্থিত ‘মনোয়ারা খাবার হোটেলে’ নাস্তা করতে যান সাংবাদিক এম. জাহিদ। হোটেলের পার্কিংয়ে মোটরসাইকেল রাখার সময় অসাবধানতাবশত বাইকের হর্নে চাপ পড়ে। এতেই কোনো প্রকার কথা কাটাকাটি ছাড়াই হোটেলে অবস্থানরত এসআই ফেরদৌস চরম উগ্রতা প্রকাশ করেন। তিনি সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে সাংবাদিকের দিকে তেড়ে আসেন এবং প্রকাশ্যে অশ্রাব্য, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।
সাংবাদিক এম. জাহিদ কোনো প্রকার উসকানিতে না গিয়ে শান্ত ও পেশাদার আচরণ দেখালেও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা আরও মারমুখী হয়ে ওঠেন এবং খাবার টেবিল থেকে উঠে এসে শারীরিক আক্রমণের উপক্রম করেন। হোটেল কর্মচারীরা তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করে সাংবাদিক এম. জাহিদের পরিচয় দিলেও তিনি অপমানজনক আচরণ অব্যাহত রাখেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হোটেল স্টাফ ও স্থানীয় সাধারণ নাগরিকরা জানান, উক্ত ঘটনায় সাংবাদিকের বিন্দুমাত্র ভুল বা উসকানি ছিল না। একজন নির্দোষ সংবাদকর্মীর প্রতি পুলিশ কর্মকর্তার এমন আচরণে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে হোটেলের স্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ ও ধারণকৃত ডিজিটাল ভিডিও প্রমাণ ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নিকট জমা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে লিখিত অভিযোগ দায়ের এবং সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন অভিযুক্ত এসআই ফেরদৌস। নিজের অপকর্ম ঢাকতে ও প্রশাসনিক শাস্তি থেকে বাঁচতে তিনি এখন বরিশালের বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল ও সংবাদকর্মীদের দ্বারে দ্বারে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ কোনো ধরনের আপসে না গিয়ে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অটল রয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক এম. জাহিদ বলেন, “আইনের রক্ষক হয়ে একজন সাধারণ নাগরিক ও সংবাদকর্মীর ওপর প্রকাশ্যে এমন মারমুখী আচরণ চরম অন্যায়। প্রমাণ সাপেক্ষে অভিযুক্ত সাব-ইনস্পেক্টরের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ে বিভাগীয় ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। স্থানীয়ভাবে সুষ্ঠু বিচার না পেলে আমি সরাসরি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মহোদয়ের দপ্তরে আবেদন জানাব।
বরিশালের সর্বস্তরের সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে অবিলম্বে অভিযুক্ত এসআই ফেরদৌসকে বিভাগীয় তদন্তের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছে।
লিড নিউজ আইন-আদালত, গণমাধ্যম, বরিশাল, বরিশাল বিভাগ, শিরোনাম


