উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার সাতলায় মূর্তিমান আতঙ্ক আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ মিজান মিয়া। বিচারের দাবিতে বিক্ষোভে বিক্ষোভে উত্তাল সাতলা। বিএনপির অফিস ভাংচুর ও হামলার নের্তৃত্বে ছিলেন মিজান। সে কতিপয় বিএনপি নেতাদের ছত্রছায়ায় ঘের দখল,আওয়ামীলীগকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টাসহ একের পর এক এলাকায় তান্ডব চালাচ্ছে। ১১জুন বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টার দিকে মিজান বাহিনী মুড়িবাড়ি উত্তর সাতলা সততা মৎস্য ঘের দখল করার জন্য বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় ভাংচুর করে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে সাতলা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিন্টু মিয়ার অতর্কিত হামলা চালায়। এমনকি মিন্টু মিয়াকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে সজ্ঞাহীন করে ফেলেছে। বর্তমানে মিন্টু মিয়া বরিশাল হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
এদিকে ভূমিদস্যু আওয়ামী লীগের দোসর মিজান মিয়ার তান্ডব থেকে রক্ষা ও হামলার বিচারের দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। মুড়িবাড়ি এলাকায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে ১৪ জুন দুপুর ২ টার দিকে স্থানীয় ও উপজেলা পর্যায়ের শত শত নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে মুড়িবাড়ি বিএনপির কার্যালয়ের সামনে ও উত্তর সাতলা বাসতলা ও জনতা বাজারে একের পর এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। বিএনপি অফিস কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় পরিদর্শন করেন উজিরপুর উপজেলা পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ শাহাবুদ্দিন আকন সাবু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোঃ মনিরুজ্জামান লিখন, উপজেলা মৎস্যদলের সাবেক সভাপতি আলম ফকির, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল সিকদার, উপজেলা জিয়া মঞ্চের সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম। এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং এই ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান উপজেলার নেতাকর্মীরা।প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তৃতাকালে মোঃ শাহাবুদ্দিন আকন সাবু বলেন এ হামলা কেবল একটি অফিস নয়, গোটা বিএনপির অস্তিত্ব ও আদর্শের উপর আঘাত হানা হয়েছে। যারা ভেবেছে হামলা করে আমাদের স্তব্ধ করে দেবে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। আমরা ঘরে বসে থাকব না। আওয়ামী লীগের সকল সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের ফায়সালা রাজপথেই জবাব দেওয়া হবে। মনিরুজ্জামান লিখন বলেন, “প্রতিপক্ষ বুঝে ফেলেছে—বিএনপি আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, সেখানেই তাদের ভয়। তাই ঘের প্রকল্প ও সংগঠনের কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করতেই এই বর্বর হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু আমাদের থামানো যাবে না। আমাদের শান্তি নষ্ট করতে আসবেন না। তাহলে আপনারা বিগত ১৭ বছর মানুষের সাথে অন্যায়ভাবে যা যা করেছেন তার দাত ভাঙা জবাব দেয়া হবে।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাতলা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাঞ্চন মোল্লা, আনোয়ার মিয়া, উজিরপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব পনির খাঁন, ওটরা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান টুলু, ৯নং ওয়ার্ড সাতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আঃ ছত্তার পাইক, ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি জিয়াবুল মোল্লা, ছাত্রনেতা মোঃ রাহাত খন্দকার, কৃষকদল নেতা মোঃ ইউনুস বিশ্বাস, যুবদল নেতা আতিয়ার হাওলাদার, মোঃ মোস্তফা সরদার, মোঃ সরোয়ার সরদার, শাহাদাত বিশ্বাস, কাজি শিপলুসহ শত শত নেতাকর্মী। এছাড়া ১২জুন সাতলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাহাত খন্দকারের নের্তৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাতলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মোঃ অমিত হাসান মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজল মোল্লা,ছাত্রদল নেতা খায়রুল বিশ্বাস, সাতলা ইউনিয়ন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ শাহাদাত বিশ্বাস। ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মিয়া, সিনিয়র সহ-সভাপতি ছরোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক এরশাদ সরদার। এসময় বিক্ষুব্ধরা বলেন বিএনপির অফিস ভাংচুর ও সাতলা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিন্টু মিয়ার উপর হামলাকারী সাতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ মিজান মিয়াকে অচিরেই গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এছাড়াও সাতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিযুক্ত মিজান মিয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুস সালাম জানান কোন অপরাধীই পাড় পাবেনা। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উজিরপুর, বরিশাল বিভাগ